গৃহযুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র পেইড এজেন্ট হিসেবে এদেশে কাজ করছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় আইএসআই স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের উপর ক্ষিপ্ত। মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে দাবি করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্মসূচনালগ্ন থেকেই একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন বিএনপির একজন নেতা। বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহমুদুর রহমান যিনি দলটির থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত। এই মাহমুদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করার চক্রান্তের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।
১৫ দশমিক ১ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপে মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, বাংলাদেশ ভারতের উপকারী রাষ্ট্র হয়ে উঠছে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের ‘প্রহসনমূলক নির্বাচনে’ নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছে ভারত। এছাড়া মাহমুদুর রহমান জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ফ্যাসিস্ট সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে শাসন করছে ভারত।

মাহমুদুর রহমান ভিডিও বার্তায় বলেন, আমি বিগত ২ বছর যাবত বলে আসছি যে, নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয়। শুধু মাত্র গণবিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে উৎখাত করা সম্ভব না।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে আমি অভিমত দিয়েছি। এই ধরনের অংশগ্রহণ অবৈধ সরকারকে বৈধতা দেবে।
আইএসআই’র এই এজেন্ট তার ভিডিওতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামেও মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ফ্যাসিস্ট ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। শুধু তাই নয়, মাহমুদুর রহমান বিএনপি পরিচালিত ঐক্যফ্রন্টেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে বিএনপি ড. কামালের সঙ্গে জোট বেধেছে। ড. কামাল কিভাবে বিএনপি নেতাদের সামনে শেখ মুজিবুর রহমান অবিসংবাদিত নেতা দাবি করেন? আর বিএনপি নেতারা কোন প্রতিবাদ ছাড়াই ড. কামালের কথায় সায় দিয়েছেন। এছাড়া মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের সকল পত্রিকাগুলোকে ক্ষমতাসীন সরকারের পাচাটা চামচা হিসেবেও তিরস্কার করেন।

আল-কায়েদা স্টাইলে পাঠানো ভিডিও বার্তায় মাহমুদুর রহমান দেশের তরুণ সমাজকে গণতন্ত্র রক্ষার নামে সরকারবিরোধী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উসকানি দেন। যা রীতিমত ভীতিকর উসকানির সামিল। এই যুদ্ধে প্রচুর রক্তপাতের শঙ্কা প্রকাশ করে তরুণ সমাজকে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজেও সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশগ্রহণের মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মাহমুদুর রহমানের এই ভিডিও বার্তাটি প্রমাণ করে যে, জাতীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষ বিএনপি-জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করলেও পাকিস্তানি কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই অন্তত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই ভয়ংকর গোয়েন্দা সংস্থাটি স্থানীয় এজেন্টদের ব্যবহার করে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে ব্যস্ত। অন্তত মাহমুদুর রহমানের সেই ভিডিও বার্তায় সেই ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া গিয়েছে।
এদিকে মাহমুদুর রহমানের এই আল কায়েদা-টাইপ ভিডিও বার্তাকে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী স্পষ্টভাবে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের এসব ভিডিও বার্তা ও অন্যান্য ষড়যন্ত্র দেখে এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে জোরপূর্বক উৎখাত করতে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে পাকিস্তানপন্থী জাতীয় বেইমানরা।
মাহমুদুর রহমানের গোপন ভিডিও বার্তাটিকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দাবি করে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তিনি একাধিকবার আইএসআই’র এজেন্টদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইএসআই স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে উৎখাত করে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এই দেশের মাধ্যমে পাকিস্তান লাভবান হবে।
দায়িত্বশীল আরও একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থান করে মাহমুদুর রহমান আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র নেতা পরেশ বড়ুয়া এবং জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি সংগঠন ও নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি তিনি ভারতের তথাকথিত খালিস্তান আন্দোলনের কিছু ঊর্ধ্বতন জঙ্গই নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন যাদের মাধ্যমে তিনি ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সন্ত্রাসী হামলার মতো ভয়ংকর পরিকল্পনা করছেন। এটি বলে রাখা উচিত, লস্কর-ই-তৈয়বা’র মতো পাকিস্তানপন্থী একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গই সংগঠনের সঙ্গে মাহমুদুর রহমানের গোপন যোগাযোগ বহাল রয়েছে।
ভিডিও ক্লিপে মাহমুদুর রহমান দাবি করেন যে ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলটি দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিলো। এক্ষেত্রে মাহমুদুর রহমান সাজিয়ে সাজিয়ে মিথ্যা বলেছেন। আসল সত্য হলো, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তীতে সময়ে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের হামলায় আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতা-কর্মীরা নিহত হয়েছেন। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ বরাবরই ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণু। ভিডিও বার্তার শেষ মুহূর্তে মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য সাংঘর্ষিক। তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের ইসলামের ইতিহাস পড়ার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি ১৯ শতকের ইতিহাস না পড়ার জন্য সাধারণ মানুষ আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে ১৯ শতকের ইতিহাস হিন্দু জাগরণের ইতিহাস। মাহমুদুর রহমান উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও তিনি যে কতটা সাম্প্রদায়িক এবং ধর্ম ব্যবসায়ী সেটি স্পষ্ট হয় যখন তিনি ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য তরুণ সমাজকে আহ্বান জানান। উসকানিমূলক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন যে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা “ঈমানি দায়িত্ব”। যা পুরোটাই মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক।

Leave a Reply