রাষ্ট্র বনাম মুক্তিযোদ্ধা – পর্ব-০২

।। প্রশ্ন- : স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও অবদান কতটুকু?।।

আমরা জানি, ১৯৭১ সালে প্রায় ৯ মাস মেয়াদি এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এই যুদ্ধকে আমরা সঙ্গতকারণেই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বলে থাকি। যদিও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের কেউ কেউ এ যুদ্ধকে ‘ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ’ বা কেউ কেউ একে ‘গন্ডগোলের বছর’ নামেও বলতে ভালোবাসেন!

১৯৭১ সালে কখন কীভাবে এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা আমরা জানি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধ্বস বিজয় লাভের পর তৎকালীন পাকিস্তানি সরকার বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে সামরিক শক্তির অধীনে এনে বাঙালি জাতির ওপরে ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। তারা ভেবেছিল, সামরিক শক্তি দিয়েই চিরকালের জন্য বাঙালিদের দাবিয়ে রাখবে। কিন্তু মুক্তি ও স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতি তাৎক্ষণিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঘুরে দাঁড়ায় এবং দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে যা মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর একতরফা সামরিক অভিযান তথা ‘অপারেশন ক্র‍্যাকডাউনের’ পর মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাঙালি জাতির সামনে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার আর কোনো বিকল্প বা দ্বিতীয় পথ ছিল না। সুতরাং, জয় বা অস্তিত্বহীনতা যে কোনো একটি বেছে নেওয়াই ছিল তখনকার একমাত্র বিবেচ্য। বাঙালি জাতি প্রথমটাই বেছে নিয়েছিল এবং জীবনবাজি রেখে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত যুদ্ধকালীন সরকারের অধীনে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

সুতরাং, নয় মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে দেশের অভ্যুদয়, সেই মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও অবদান শুধু প্রশ্নাতীতই নয়, কোনো ভাবে বলে বা লিখে তার অবদান আর মহত্বকে কেউ ছোট করতে পারবে কি?

লেখক: কামাল আহমেদ

Leave a Reply