মনে পড়ে বেগম জিয়ার উক্তি- ‘হাসিনা ২টা সাবমেরিন এনেছে, উদ্বোধনের পরই ডুবে গেছে’

“হাসিনা দুইটা সাবমেরিন এনেছিল, উদ্বোধনের পর পরই ডুবে গিয়েছিল”!


প্রিয় প্রজন্ম, উপরের এই কথাগুলো কার, আপনারা জানেন? আমাদের দেশের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার! খুব অবাক হচ্ছেন, তাই না? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক চট্রগ্রামে সাবমেরিন উদ্বোধনের দুইদিন পর বেগম জিয়া তার এক সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেছিলেন।
 

বেগম জিয়ার জ্ঞানের এতো গভীরতা দেখে কী ভাবছেন?


আমার ভাবনায় কিছু নেই। তবে যদি আপনাদের মনে থাকে, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন অর্ধেক দামে ১০ হাজার কম্পিউটার নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানি থেকে নেয়ার চুক্তি সম্পাদন করেছিল। প্রক্রিয়াটি শেষ হবার আগেই বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দেয়। এর কারনটা কী ছিলো মনে আছে?
যাদের মনে নেই, তাদের জন্য বলছি। কারনটা ছিলো- নেদারল্যান্ডের ওই দাতা কোম্পানিটির নাম ছিল “টিউলিপ”। কোম্পানির নামটি মিলে যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার মেয়ের নামের সাথে। আর শুধু এই কারণেই ওই চুক্তিটি বাতিল করেন বেগম জিয়া। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কোম্পানিটি। ফলে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা ঠুকে দেয়। আর মামলায় হেরে গিয়ে নেদারল্যান্ড সরকারকে ৫৬৭ কোটি টাকা জরিমানা দেয় বাংলাদেশ।
এবার খালেদা জিয়া আরেকটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি তার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন পদ্মা সেতুতে না ওঠার জন্য!
গত বছর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতুর কাজ আওয়ামী লীগের আমলে শেষ হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না।’
উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব-উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। তারা সবাই কিন্তু খালেদা জিয়ার সেই মন্তব্যে মাথা নেড়ে সায় জানিয়েছেন!
একটা দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যদি এমন অন্ধ হয়, তাদের কাছ থেকে জাতি কী আশা করে? যেখানে আন্তর্জাতিক মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বড় বড় দেশ এবং সংস্থাগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এত বড় একটা কর্মযজ্ঞ কীভাবে সম্পাদন করা যায়। সেই সাথে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গড়া হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু, যার নির্মাণশৈলী এবং কারিগরী দিক বিশ্বের সর্বত্র প্রশংসনীয়ও হয়েছে। কিন্তু কেন সেটা বিএনপি প্রধানের পছন্দ হচ্ছে না, কারনটাও নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না। আপনারাই ভেবে নিন।
লেখক: ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী

পরিচিতি: শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী

পেকুয়া, কক্সবাজার

Leave a Reply