কেনো বিএনপি-জামাত কোন আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন দেয়ার নৈতিক অধিকার রাখে না?

প্রশ্ন- কেন বিএনপি তথাকথিত মেধাবীদের “মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী” আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে পারে না?

উত্তর- কারন, বিএনপি হলো স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারের দোসর এবং যাদের শীর্ষ নেতৃত্ব শিক্ষ-দীক্ষায় অশিক্ষিত গন্ডমূর্খ। স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের কোলে নিয়ে মূর্খের দল কি মেধাবীদের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন দিতে পারে?

প্রশ্ন- কেন বিএনপি-জামাতীরা “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে পারে না?
উত্তর- যাদের পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের অত্যাচারে বাংলাদেশের সড়ক, রেল এবং নৌপথ নরকে পরিনত হয়েছিলো। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হ্যাপি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ সড়কের দাবী আন্দোলনরত সাধারন ছাত্র/ছাত্রীদের ঢাকা চারুকলার ইন্সিটিটিউটের গেট বন্ধ করে পিটিয়েছিলো। তারা কোন যুক্তিতেই নিরাপদ “সড়ক চাই” আন্দোলনের মতো অরাজনৈতিক আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে পারে কি?

প্রশ্ন- কেন কৃষকদের কোন দাবীর আন্দোলনে বিএনপি-জামাতীরা প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়ার অধিকার রাখে না।

উত্তর- বিএনপি সরকার কৃষকদের সার-বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই। উল্টো সারের দাবীতে আন্দোলন করায় দিনাজপুরে ১৮ জন নিরীহ নিরস্ত্র কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিলো। বিদ্যুতের দাবীতে আন্দোলন করায় চাঁপাইনবাব গঞ্জের কানসাটে ১৮ জন নিরীহ সাধারন মানুষকে হত্যা করেছিলো বিএনপি-জামাতী পুলিশ বাহিনী। লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছিলো তাদের ঘরবাড়ি। 

প্রশ্ন- কেন বিএনপি-জামাতীরা ধর্ষনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন দিতে পারে না?

কারন- বিএনপি-জামাতীরা ৭১এর ধর্ষকদের চেতনাই ধারন করে। যারা রাষ্ট্রীয় মদদে ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মা-বোন, কন্যাকে ধর্ষন করেছিলো। তারা কোন যুক্তিতে ধর্ষনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে?
প্রশ্ন- কেন বিএনপি-জামাতীরা গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের কথা বলার নৈতিক অধিকার রাখে না? 
উত্তর- বিএনপির জন্মই হয়েছে সামরিক বাহিনীর ছত্রছাঁয়ায়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া একজন অনির্বাচিত অবৈধ শাসক ছিলো। ক্ষমতা গ্রহনের পরে সে তার ক্ষমতাকে যায়েজ করতে নির্বাচন নামে যে নাটক মঞ্চস্থ করেছিলো সেটা ছিলো আরো হাস্যকর। বিএনপি-জামাতীর সমর্থকেরা ইদানিং একটা শ্লোগান খুব আউড়ায় “আমার ভোট আমি দেবো। যাকে খুশি তাকে দেবো”! গণতন্ত্র তো এটাই। মজার ঘটনা হলো, তাদের আদর্শিক নেতা জিয়া যে নির্বাচন দিয়েছিলো সেখানে যাকে খুশি তাকে ভোট দেয়ার কোন অপশন ছিলো না।! আপনারাই বলুন, বিএনপি-জামাতীরা কি গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার রাখে?

একইভাবে শিক্ষক, ডাক্তার, নার্সদের অধিকারের আন্দোলন, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, 

গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা, পদ্মাসেতু, পানি চুক্তিসহ অসংখ্য ইস্যু আছে যেগুলোতে বিএনপি-জামাতীরা কথা বলার কোন নৈতিক অধিকার রাখে না। আমি তো মনে করি, বাংলাদেশের 

জনগনের অধিকার জড়িত এমন কোন ইস্যুতেই স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামাত জোটের কথা বলার কোন নৈতিক অধিকার নাই। সেই কারনেই তারা “কোটা সংষ্কার” আন্দোলনের নামে “মুক্তিযোদ্ধা কোটা” বিরোধী আন্দোলনে জড়িতরা ছাগু হয়েও বঙ্গবন্ধুকে মুখোশ হিসেবে ব্যবহার করেছিলো। তখনই বলেছিলাম, যে কোন আন্দোলন হলেই যারা বঙ্গবন্ধুকে মুখোশ হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ধোলাই দেয়া হোক। যাইহোক, এই আন্দোলনের সাথে জড়িত সকলেরই মুখোশ ইতিমধ্যেই খুলে পড়েছে। সামনে এদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আমাদের আরো সাবধান থাকতে হবে।
লেখক: তাপস সরকার

Leave a Reply