নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সেই গৃহবধূ ধর্ষনকারীদের কেনো ক্রসফায়ার করা হবেনা?

ধর্ষনের আগে তো সে যথেষ্ট সম্মানের সহিতই একটা ধর্মও দলের অনুসারী হয়ে একটা দেশেই ছিল? তাহলে ধর্ষনের পরে সে কেন ঐ ধর্ম ও দল থেকে খারিজ হবে? কিংবা সে এই দেশের নাগরিক নয় সে অস্বীকার করা হয়? 

আসলে ধর্ষকের কোন ধর্ম, দল ও দেশ নাই এসব বলে ধর্ষকে ( এক প্রকারের ইনডেমনিটি) নিজ গোত্র থেকে খারিজ করে নিজের হাত পরিষ্কার করতে চাইছেন!! 
আসলে একটা ধর্ষকের সবই আছে যেমন সে একটা নির্দিষ্ট দলের অনুসারী, একটা দেশের নাগরিক ও একটা ধর্মেরও অনুসারী! ধরা পরলেই আমরা অস্বীকার করি কারণ আমরা আমাদের সাদা কাপড়ে দাগ লাগাতে চাই না! 

ধর্ষন সব সময়ই ঘৃণিত, ধর্ষন চেস্টা হত্যা চেস্টা আর ধর্ষন একটি হত্যাকান্ড। শারীরিক মৃত্যু না হলেও আত্মিক আর মানষিকভাবে মৃত্যুবরন করে মানুষটি। আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন যেখানে ধর্ষকের চাইতে আমরা ধর্ষিতাকে ছোট করে দেখি। কিন্তু যদি ধর্ষন আমাদের পরিবারের কারো সাথে ঘটতো তখন আমরা কিভাবে সেটিকে নিতাম? ধর্ষন যদি মানুষ জন্তুজানোয়ার এ রূপান্তরিত না হয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে করে তখন সেটিকে আমরা কিভাবে উপস্থাপন করবো? আর উদ্দেশ্যমূলক সেই জন্তুদের সংখ্যা যদি ১১ এর অধিক হয়, সেক্ষেত্রে কি উপাধি দেয়া যাবে এমন জঘন্য অপকর্মের? 

নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জয়লাভ, কিন্তু জনগন আওয়ামীলীগের বাইরেও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। ভোটার অনেকেই নিজের ভোটের মতামত সামাজিকভাবে ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু সেই ভোটারদের মাঝে কয়জন খুন কিংবা ধর্ষনের শিকার হয়েছন? সুবর্ণচরের ধর্ষনের ঘটনা কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিলোনা? শিশু ধর্ষন হতে আরো কয়েকটি ধর্ষন মামলায় র‍্যাব এক মাসে ৬ টি ক্রসফায়ার দেয়। যাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি, দেওয়ার কথা না। তাহলে এই উদ্দেশ্যমূলক জন্তুদের জন্য কি ব্যবস্থা রেখেছে রাস্ট্রযন্ত্র?
আমাদের উচিত নয়! ধর্ষকদের দল, ধর্ম, দেশ থেকে বহিস্কার না করে তাদের ঐ নিয়ন্ত্রিত দল, ধর্ম আইনের হাতে তুলে দিয়ে তাদের আমৃত্যু পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের জন্য লড়াই করতে পারেনা? একজন ধর্ষকের ক্রসফায়ারে যদি ১০০ টি ধর্ষন বা চেষ্টা রোধ হয় তো সেই ক্রসফায়ারকে স্বাগতম জানাতে দ্বিধা কেনো? ক্রসফায়ার হলে মানবতাবাদীরা শাসক যন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ফেটে উঠে কিন্তু ধর্ষনের সময় সেই মানবতাবাদী বা মানবাধীকার কর্মীরা কোথায় থাকে!
ওই গৃহবধূর স্বামী জানান, রোববার দুপুরের দিকে তার স্ত্রী স্থানীয় ভোটকেন্দ্র চরজুবলীর ১৪নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে যান। তিনি ভোট দিয়ে ফেরার পথে স্থানীয় রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে এবং উত্ত্যক্ত করে। তার স্ত্রী এর প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসেন। এ অবস্থায় রুহুল আমিন ও তার লোকজন স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। রোববার গভীর রাতে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একদল সন্ত্রাসী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে চলে যায়। এতে তার স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে তার স্ত্রীকে আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই  নামধারী ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড চাই। নিজ দেশ ও ধর্মকে কলংকমুক্ত করি। পূর্নিমার ঘটনা বিএনপিকে ১৮ বছর ধরে এখনো টানতে হচ্ছে সুতরাং আওয়ামীগীকেও যেন নোয়াখালির সুবর্নচরের ঘটনা আগামী ৫০ বছর টানতে না হয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ট বিচার চাই।

Leave a Reply