শিবির-জামায়াত-রাজাকারদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তাণ্ডব

ভালো খবরের চেয়ে মন্দ খবরে লোকের আগ্রহ বেশি। ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচকের প্রতি টান। গুজব হলে তো কথাই নেই। পড়তে আরামবোধ করে লোকে। আনন্দ পায়, পুলকবোধ করে। গণমাধ্যমে লেখাপড়া এবং কাজের অভিজ্ঞতা থেকে দায়িত্ব নিয়েই বলছি একথা ।

ক’দিন আগে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবদানের জন্য বিশেষ পুরস্কার পেয়েছি। সে খবর কিন্তু খুব বেশি ছড়ায়নি। অথচ কাল যদি আমার কোনো গসিপ বেরুতো, গোপন প্রেম, অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়ার খবর বেরুতো, যৌন হয়রানির বানোয়াট ভিডিও প্রকাশ পেতো- লাখ ছাড়িয়ে তা কোটি কোটি শেয়ার হতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা দ্রুত ও অনায়াসে ভাইরাল হতো- তা আমি নিশ্চিত।

আর ক’দিন পর নির্বাচন। এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের যে উদার, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু পরিবেশ তা তুলনামূলকভাবে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বিরল। প্রতিযোগিতাতো থাকবেই। কেউ কাউকে সহজে রাজনীতির মাঠ ছেড়ে দেবে না, এমনটাইতো স্বাভাবিক। প্রচার হবে, প্রচারণা চলবে এটাইতো নিয়ম। চলছেও তাই। কিন্তু যেটি লক্ষণীয়, তা হলো- অপপ্রচার, প্রপাগান্ডা।

এই সময়ের অপপ্রচার সকল সময়ের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রচারকারীরা অপপ্রচারের সবটুকু করছে। রীতিমত আকাশ উল্টে দেওয়া অপপ্রচার। সরকারবিরোধী তৎপরতা। এটাকে আমি দেশবিরোধী অপপ্রচার বলবো। রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার বলবো। একটা সরকারতো দেশের জন্যই কাজ করেন। দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে। সেই স্বার্থের বিরুদ্ধে যখন প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়, তা তো দেশবিরোধীই।

ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, ইউটিউব, ফেসবুকসহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সয়লাব। ম্যাসেঞ্জার, ইনবক্সে মিথ্যে, বানোয়াট ভিডিও ক্লিপ শেয়ার হচ্ছে। বলা হচ্ছে, শেয়ার করুন, ছড়িয়ে দিন। গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। এক হাত থেকে অন্য হাত। এক কোটি থেকে হাজার কোটি। এসব ভিডিও ক্লিপের সব যে দেশে তৈরি, দেশে নির্মিত তা নয় কিন্তু। কোনও কোনও ভিডিও শ্যুট হয়েছে মালয়েশিয়ায়, লন্ডনে, কানাডায়, দেশে ও দেশের বাইরে। এ এক বিশাল চক্র। মিথ্যেকে প্রায় সত্যের মতো করে বলা। অর্ধ সত্যের সংমিশ্রণও কখনও কখনও। নিখুঁত নির্মাণ। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। কণ্ঠে আবেগ। কাতরতা, কান্না। বিশ্বাস হতে বাধ্য মানুষ।

নানান দেশের, নানান জায়গার ছবি এনে এডিট-প্যানেলে ভয়েজওভার দিয়ে মিলিয়ে দেওয়া। নির্যাতন, হত্যা, খুন, ধর্ষণের মিথ্যে খবর। কী ভয়ংকর! বীভৎস সব ছবি। চিত্রকল্প। যে কেউ ভয়ে শিউরে উঠবার মতো।

এসব ভয়ংকর কাজ মূলত করছে, শিবির-জামায়াত, সঙ্গে বরাবরের মতো তাদের সহায়তাদানকারী, তাদের চিরকালের বন্ধু বিএনপি। শিবির-জামায়াত-বিএনপি’র এই উইংটি যতভাবে সম্ভব মিথ্যে ছড়াচ্ছে, ঘৃণা ছড়াচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে মানুষকে। তাদের চাওয়া-পাওয়া একটাই, শেখ হাসিনা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারেন। যতভাবে সম্ভব প্রধানমন্ত্রী ও তাদের স্বজনদের চরিত্রহনন করা যায়, তা করা।

মোহাম্মদ এ আরাফাত, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। সজ্জন মানুষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার দেখা সৎ মানুষদের একজন। যে কেবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জয় বাংলার শক্তিকে সারাদেশে তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে দিনমান। সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু সে। সরকারের, একজন শেখ হাসিনার আন্তরিক উন্নয়নকে তুলে ধরছেন মানুষের কাছে। দেশবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি নিবেদিত প্রাণ।

মোহাম্মাদ এ আরাফাতের এই কাজটি কি অন্যায়? সে কি কোন অপরাধ করছে? সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে? প্রচলিত আইনের প্রতি সে কি অশ্রদ্ধাশীল? তা কিন্তু নন তিনি। অথচ তার চরিত্রহনন করা হচ্ছে জঘন্যভাবে। ইতর প্রক্রিয়ায়।

জামায়াত-শিবিরের কাছে সবচেয়ে বড় ভিলেন আরাফাত। তার সম্পর্কে ন্যূনতম সভ্য গালিটি হচ্ছে ‘দালাল’। বাকি সব এতই অশ্রাব্য যা উচ্চারণ করবার জো নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার তার প্রতিটি পোস্টের নিচে রীতিমত হামলে পরে শিবির-জামায়াত-বিএনপি। ইউটিউবে তাকে নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের নির্মিত ভিডিওর ছড়াছড়ি।

আরাফাত কাজ করেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মিথ্যে অপপ্রচার রুখতে, উন্নয়নের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে। এসবই তো সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজ। তিনি যদি দালালই হন তবে তা দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের পক্ষে।

এবারের নির্বাচন প্রচারণায় আমার দুই বন্ধু ফেরদৌস আহমেদ ও রিয়াজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের কাছে শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটা মমতাময়ী, মানবিক এবং ধার্মিক একজন মানুষ। পথসভা, জনসভায় উল্কার মতো ছুটছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন, প্রান্তিক মানুষকে বুকে টেনে নিচ্ছেন। অথচ এই প্রচারযাত্রায় তার এক ওয়াক্ত নামাজও বাকি নেই। তিনি প্রকৃতই একজন উদার, মানবিক, ধার্মিক, দেশপ্রেমিক মানুষ। যিনি নিজে ধর্ম পালন করেন, অন্যের ধর্মকেও সম্মান করেন। কেননা প্রতিটি মানুষ মহান স্রষ্টার সৃষ্টি।

ফেসবুকে দেখলাম, ফেরদৌস-রিয়াজকে নিয়ে ট্রোল। ফেরদৌসকে বলা হচ্ছে ‘ভারতীয় দালাল’। ফেরদৌস বাংলাদেশের প্রথম কোন নায়ক যিনি দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় ও সম্মানিত। ভারত সরকার তাকে নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফেরদৌসসহ আমি নিজেও ঢাকার বাইরে গিয়েছি ভোট চাইতে, প্রত্যন্ত গ্রামে। আমরা ভোট চেয়েছি- স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে, উন্নয়ন আর শেখ হাসিনার পক্ষে।

এখানে দুটি দল খুব স্পষ্ট- স্বাধীনতার, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ। দুটি দর্শন ভিন্ন। একটি বাংলাদেশ দর্শন। অন্যটি পাকিস্তান দর্শন। আলাদা দুটি পথ। একটি ’৭২ এর সংবিধান বিশ্বাস করে, অন্যটির বিশ্বাস নেই ধর্মনিরপেক্ষতায়, সমাজতন্ত্রে, গণতন্ত্রে, জাতীয়তাবাদে। ফলে যে মানুষই জয় বাংলা বলবে, বলবে মুক্তিযুদ্ধ, বলবে বঙ্গবন্ধু, বলবে বাংলাদেশের কথা, সেই গাল খাবে, কুৎসিত গাল। হেনস্তা হবে, অপদস্থ হবে, অপমানিত হবে, অসম্মানিত হবে- স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের আক্রমনে।

আমি নিশ্চিত, এ লেখাটি পড়বার পর অনেকেই আমাকে আক্রমণ করবে, রীতিমত অশ্লীল সব আক্রমণ। আক্রমণকে আমি ভয় পাই না। কোন সৎ আর সাহসী মানুষের প্রশ্নই ওঠে না ভয় পাবার। কিন্তু কষ্ট হয়, ভীষণ কষ্ট হয় যখন দেখি এই দেশে, এই ডিসেম্বব মাসে, কিছু লোক, কিছু গোষ্ঠী জামায়াতকে পুনর্বাবাসন করবে।

Leave a Reply