বিএনপি চূড়ান্ত ছক প্রস্তুত: নকল বুথ-ব্যালট পেপার, কেনা হয়েছে ৩ হাজার ক্যামেরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চূড়ান্ত ছক প্রস্তুত করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে নকল বুথ। ছাপানো হয়েছে কয়েক লাখ নকল ব্যালট পেপার। প্ল্যান অনুযায়ী কেনা হয়েছে ৩ হাজার ক্যামেরাও।

জানা গেছে, ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে নৌকায় সিল মেরে তা ব্যালট বাক্সে ভরার দৃশ্য ধারণ করা হবে। আর সেই ভিডিও ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর রাতে ছাড়া হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সকল শাখায়। গুজব ছড়ানো হবে, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটের আগেই নৌকায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখছে।’
বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টুর জবানবন্দিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মহাসিন মন্টুর জবানবন্দির বরাতে দেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপরতায় তারেক রহমানের দেয়া ডজন খানেক পরিকল্পনার কোনটিই বাস্তবায়িত না হওয়ায় সর্বশেষ কৌশল হিসেবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার নির্দেশ এসেছে লন্ডন থেকে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ছাপানো হয়েছে কয়েক লাখ ভুয়া ব্যালট পেপার। এমনকি নকল বুথ তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে। তবে গ্রেফতারকৃত মন্টু বুথগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি।
বিএনপির এই তৎপরতা সম্পর্কে জানা গেছে, ভোট কেন্দ্রের আসল বুথের ন্যায় নকল অসংখ্য বুথ তৈরি করে সেখানে রাখা হবে ভুয়া ভোট গ্রহণকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের। একের পর এক নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে দেখা যাবে কিছু সংখ্যক কর্মীকে, আর এতে সহায়তা করবে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা। আর এই দৃশ্য এমনভাবে ধারণ করা হবে যাতে বোঝা যায়, গোপন ক্যামেরা দ্বারা দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। আর তা ছড়িয়ে দেয়া হবে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়।
এরইমধ্যে এই কর্মযজ্ঞ চালাতে প্রস্তুত করা হয়েছে দলের বিশ্বস্ত কিন্তু মিডিয়ার সামনে না আসা প্রায় ৩ হাজার কর্মীকে। যারা কেউ প্রিসাইডিং অফিসার, কেউ পোলিং এজেন্ট, কেউ ব্যালট বাক্সে ভোট কারচুপিতে সহযোগী হিসেবে রোল প্লে করবে।
বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বিএনপির এমন পরিকল্পনা যদি কোনভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যেকোন মূল্যে এমন পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা নির্বাচন কমিশন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুদায়িত্ব। তবে এর চেয়ে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো- এমন হয়তো অনেক পরিকল্পনাই হাতে নিয়েছে বিএনপি, যা প্রকাশ্যে আসেনি। তাই তাদের অপতৎপরতা রুখতে অতিসত্বর এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা মহাসিন মন্টুর দেয়া তথ্য অনুযায়ী মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষ টিম। যেকোন মূল্যে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে।

Leave a Reply