কালিহাতীতে নৌকার পালে হাওয়া

জুয়েল হিমু, ক্রাক প্লাটুন ঃ

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় নৌকার পাল উঠেছে। আর ঐক্যফ্রণ্টের ধানের শীষ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গ-িতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর (রোববার) নির্বাচনি প্রচারণাকালে কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সরাতৈল-বল্লভবাড়ি এলাকায় লতিফ সিদ্দিকীর গাড়ি বহরে হামলার পর তিন দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশন করায় ট্রাক প্রতীকের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। টানা তিন দিন আমরণ অনশনে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বুধবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমএসএসইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অনুপস্থিতিতে এলাকায় থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা ‘লতিফ সিদ্দিকী ঢাকা চলে গেছেন, আর আসবেন না এবং তিনি নৌকার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন’ বলে প্রচার চালান। ওই প্রচারের সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর অনুগত চার চেয়ারম্যানসহ সাত জনকে আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠি দেওয়া হয়। এতে লতিফ সিদ্দিকীর অনুগত স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বহিষ্কার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাধ্য হয়ে তারা একে একে সরকার দলীয় নৌকার প্রার্থী হাছান ইমাম খানের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় যোগ দিচ্ছেন। ফলে গত দুই দিনে নৌকার পালে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সরে দাঁড়ানোয় স্বস্তি এসেছে নৌকার সমর্থকদের। এদিকে, এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের প্রার্থী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীর ধানের শীষ প্রতীকের প্রচার-প্রচারণা চালালেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারেনি। পোস্টারে ধানের শীষের প্রতীক থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী তার দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীদের অলিখিত বেষ্টনী থেকে বেড়িয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করতে পারেননি। ফলে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা নাম না জানাতে ইচ্ছুক তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী স্থানীয় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক টেবিলে বসতে পারেননি। এমনকি তিনি এলাকায় থাকেন না। বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকেন। তাই স্থানীয় বিএনপি তার জন্য মাঠে নামেনি। অল্প সংখ্যক বিএনপির পাতি নেতাদের নিয়ে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। কোকডহরা ইউনিয়নের এক নেতা জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী মাত্র আঠারো মাস ক্ষমতায় থেকে কালিহাতীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।
তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কালিহাতীবাসী নৌকার পাল তুলবে ইনশাআল্লাহ। দশকিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার সহিদুল ইসলাম জানান, আমরাও আওয়ামী লীগ করি। নৌকা যার, আমরাও তার। অল্প সময়ে হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী যে উন্নয়ন করেছেন কালিহাতীতে তা বিরল। আমরা শতভাগ আশা করি এবার নৌকার পাল উঠবেই।

Leave a Reply