রেজাকারের সন্তান রাজাকার ফখরুলের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়! 

রেজাকারের সন্তান (মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে আটক রাজাকার চখা মিয়ার বাচ্চা) ফকরুল মুক্তিযোদ্ধা ছিল বলে দাবী করছেন! এইটা কী তার জামাতের কাছে পুটু বর্গা দেওয়ার বিষয়টিকে বৈধ করার সনদ? 

শানেনুজুল: ১

বঙ্গবন্ধুর দেহত্যাগের পর দালাল আইন বাতিল করে রাজাকার পুনর্বাসনের মহানায়ক জিয়াউর রহমান ফখরুলের বাবা চখা মিয়াকে জেল থেকে বের করে এমপি বানায়। এই আইন বাতিলের ফলে দালাল আইনে আটক ১১ হাজার দালাল মুক্তি পায়। অপরাধ গুরুতর হওয়ায় এই ১১ হাজার দালাল বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতার বাইরে ছিল। এই দালালদের মুক্তি এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসনই হচ্ছে বিএনপি’র ‘বহু দলীয় গণতন্ত্র’।
শানেনুজুল: ২
ফখরুল ইসলামের মতে জামায়াত-শিবির একটা পবিত্র দল, গোলাম অাজম একজন শহিদ এবং ভাষা সৈনিক। কসাই কাদের দুগ্ধশিশুর মতো মাছুম। সাইদি একজন নিরপরাধ অাল্লাহওয়ালা। নির্বাচনী প্রচারণার অাগে নিজামির মাজার (!) জেয়ারত করে তিনি তার প্রচারণার কাজ শুরু করেছেন। ২৫ জন জামায়াত নেতাকে বিএনপি’র ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়ে জামাতকে জাতীয়তাবাদী করণের নতুন প্রজেক্ট পরিচালনা করছেন। 
শানেনুজুল: ৩
তিনি কোন সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন? কোন কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন? কোথায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন? এসব ব্যাপারে কোন সত্য তথ্য না থাকলেও তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ আছে বলে জানা গেছে। সংযুক্ত তালিকাটি যদি সত্যি হয় তবে দ্রুতই তার নাম অপসারণ করা উচিত এবং সে-সহ এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সকলকে শাস্তি দেওয়া উচিত। রাজাকারের বাচ্চা রাজাকারের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় এটি মেনে নেওয়া যায় না। 

*

গণজাগরণ মঞ্চ সংগঠিত হবার সময় থেকে বলে আসছি- সাধারণ মানুষ জানিয়ে দিয়ে গেছে এই দেশ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের দেশ। মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী কোন শক্তি আর এ দেশে রাজনীতি করতে পারবে না। সে কথাই প্রতিফলিত হচ্ছে। রাজনীতি করতে ফখরুলদের এখন মুক্তিযোদ্ধা হবার প্রয়োজনীয়তা দেখা হচ্ছে। এ এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। নির্বাচনে জনগণ এই স্বাধীনতা-বিরোধী গোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করবেই করবে।

লেখক: নাজমুল হাসান

ব্লগার, নোভেলিস্ট, কনসাল্টটেন্ট, রিসার্চার

Leave a Reply