১৫’ই আগষ্ট একটি উন্নত বাংলাকে হত্যা, দুর্নীতিগ্রস্ত  বাংলাদেশের উত্থান- তানভীর হাসান

বঙ্গবন্ধুর বাকশালের সম্পূর্ন ইতিবৃত্ত পড়ুন, বুঝতে পারবেন আমাদের দেশ সঠিক পথে নেই, গনতন্ত্র একটি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি হতে পারেনা। বাকশাল ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশের ম্যাপ। 
আমাদের দেশের মত বর্তমান অবস্থায় কি বাকশাল গুরুত্বপূর্ন নয়? ৭৫’এ যদি বাকশাল প্রতিষ্ঠা হতো কৃষক,শ্রমিক,কর্মজীবীদের বাংলাদেশ হয়ে উঠতো আজকের এই বাংলাদেশ। ৭৫ এর ১৫’ই আগস্টের খুনি মোস্তাকরা অবশ্য তা চায়নি। কারন বাকশাল ব্যক্তি উন্নয়নের জন্য ছিল প্রতিবন্ধকতা। আর উন্নয়ন হলে হতো সেটি সামগ্রিক দেশের উন্নয়ন। তাইতো তারা চায়নি যারা নিজের ব্যক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্র বিশেষের কথা ভেবে দেশের উন্নয়নকে বিসর্জন দিয়ে সেই পাকিস্তানি এজেন্ডা পুনরায় বাস্তবায়ন করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে। তারা সফল হয় কেউ ৭৫ পরবর্তী মন্ত্রী কেউ প্রতিমন্ত্রী,কেউবা রাস্ট্রপতি হয়ে শপথ নেয়। অন্যদিকে তাদের সফলতা হলো বৈষম্য সৃষ্টির মাধ্যমে বর্তমান বাংলাকে একটি পুঁজিবাদী বাংলাদেশ হিসেবে জনগনকে উপহার দেওয়া। 

নিজেদের লোভ ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে তারা অবশ্য পারেনি, পারার কথা ছিল না কারন পাকিস্তানের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। সাময়িক সুখ দেয়ার পরই সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠায় ইন্দন দিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। ৭১ এ জয় বাংলা বলার অপরাধে, বাংলার মানচিত্র চাওয়ার অপরাধে যাঁদের গুলি করে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল সেই পাকিস্তানি দোসর, প্রেতাত্মাদেরই সামরিক ওই স্বৈরশাসক নিজ হাতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে ৭১ এর পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের বাংলাদেশে আবার শুয়োরের বেশে হানা দেয়ার একটি দুরন্ত পথ সুগম করে দেয়। 

এরপর আমরা পেতে শুরু করি মুক্তিযোদ্ধাদের, নির্যাতিতাদের স্বপ্নের বিপরীত একটা পাকিস্তানি এজেন্ডা বাস্তবায়নের গন্ধ এই বাংলায়। ফলাফল হয়ে যায় বাংলায় আবার পাকিস্তান প্রীতি জন্মানো শুরু হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের ধোয়াশা গন্ধ আমাদের প্রজন্মের কাছে বিশ্রী লাগতে শুরু করে। তাদের সফলতা তীব্র হয় যখন একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে তাঁর শুকনো রক্তে হেঁটে যাওয়া প্রজন্ম আহ্লাদ প্রকাশ করে, বাহবা প্রকাশ করে এই বলে যে একজন কোটা প্রিয় ব্যক্তি দেশ থেকে গত হয়েছেন।
 
মুক্তিযোদ্ধারা আদো কি কোটার কথা ভেবে তখন যুদ্ধ করেছিলেন? প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব হলো তাদের ভরণ পোষণ করা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের দায়িত্বের ভিতর পড়ে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা সীমিত করা হলো কারন তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগ অংশই চায়না ওনারা সুবিধাগুলো ভোগ করুক। কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য একটাই, এক মুক্তিযোদ্ধা দাদা বলেছেন ”আমরা কি আদৌ প্রজন্মের শত্রু ভাবাপন্ন হওয়ার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম “? তখন অবশ্যই ৭৫ এর ১৫’ই আগষ্টের কথা মনে চলে আসে। চলে আসে স্বৈরশাসক হয়ে রেকাকারদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা। বঙ্গবন্ধু স্বয়ং নিজেই হয়তো দেশ স্বাধীনের পর কখনো ভাবেন নি যে যুদ্ধাপরাধীরা তাঁরই ভাষন দেয়া সংসদে একদা প্রবেশ করবে আর সংসদের নেতৃত্ব দিবে কিংবা জাতীয় সংসদে স্পীকার হিসেবে ভাষন দিবে। আবার সেই পাকিস্তানের সাথেই একত্রিত হয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে বাংলাদেশ বিরোধীরা। স্বাধীন দেশে আজও মুক্তিযোদ্ধারা, পাকিস্তানি হায়নাদের দোসর-রেজাকারদের সাথে লড়তে হয় নির্বাচনে। ভুল হলেই হয়তো ক্ষমতায় চলে আসতে পারে সেই পাকিস্তানি হায়নাদের গোষ্ঠী নব্য আইএস নামে যারা পরিচিত তাদের এজেন্ডাদের হাতেই। আজও ষড়যন্ত্র করছে সেই পাকিস্তানী প্রেতাত্মারা তাদের হানাদার বাহিনীর অন্য রূপ আইএসকে সাথে নিয়ে। গোপনে চলছে মিটিং, তারা ঠিক করে দিচ্ছে কে হবে বাংলাদেশের নির্বাচনে পাকিস্তানপন্থী প্রার্থী! পাকিস্তান অর্থ খরচ করছে স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতায় আনতে।

বাংলাদেশে দুর্নিতি, বৈষম্য শুরু কখন থেকে? যে বাংগালিরা বৈষম্য দূরীকরণ করতে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের প্রজন্ম ৭১ এ অত্যাচারীদের পক্ষ কিভাবে নেয়? সেই প্রজন্মই কিভাবে দুর্নিতি করে? স্পষ্ট বুঝা যায় ৭৫’এর ১৫’ই আগষ্ট বাকশালের হত্যার মাধ্যমে সূচিত হয় এক বৈষম্যযুক্ত দুর্নিতিগ্রস্ত প্রজন্ম। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুতে প্রাণভরে হাসতে দ্বিধাবোধ করেনা কিংবা পাকিস্তনের অধীনে ভালো ছিলাম বলতেও সংকোচ বোধ করেনা। আজকের বাংলাদেশকে দুর্নিতি, বৈষম্য তৈরীতে অবদান কার? পাকিস্তান আর তাদের দোসর যুদ্ধাপরাধীদের ভালোবাসতে অবদান কার? উত্তর এক কথায় আসবে ৭৫’পরবর্তী শাসকদের।
বাকশাল সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন:

প্রচলিত গণতান্ত্রিক বৈষম্য, শোষণ–দুর্নীতিভিত্তিক সমাজকে, দেউলিয়া আর্থসামাজিক ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ প্রশাসন ও অবিচারমূলক বিচার ব্যবস্থাকে সমূলে উৎপাটিত করে একটি শোষণহীন, দুর্নীতিহীন, বৈষম্যহীন ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক সাম্যবাদী সমাজ বিপ্লবের পথ রচনা করেছি। এই সমাজ বিপ্লবে যারা বিশ্বাসী নন, তারাই বাকশাল ব্যবস্থাকে একদলীয় স্বৈরশাসন ব্যবস্থা বলে অপপ্রচার করছেন। কিন্তু আমি এ সকল বিরুদ্ধবাদীদের বলি, এতোকাল তোমরা মুষ্ঠিমেয় লোক, আমার ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ দুখী মেহনতী মানুষকে শাসন ও শোষণ করে আসছো। তোমাদের বল্গাহীন স্বাধীনতা ও সীমাহীন দুর্নীতির মধ্য দিয়ে ব্যক্তিসম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অবাধ ও মুক্ত প্রতিযোগিতার হোলিখেলায় আমার দুখীমানুষের সব আশা–আকাঙ্খা–স্বপ্ন–সাধ ধুলায় মিশে গেছে। দুখী মানুষের ক্ষুধার জ্বালা ব্যথা বেদনা, হতাশা–ক্রন্দন তোমাদের পাষাণ হৃদয়কে একটুও গলাতে পারেনি। বাংলার যে স্বাধীনতা তোমরা ভোগ করছো, এই স্বাধীনতা, এই দেশ, এই মাটি ওই আমার দুখী মেহনতী মানুষের সীমাহীন ত্যাগ–তিতিক্ষা, আন্দোলন সংগ্রাম এবং জীবন মৃত্যুর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে তোমাদের অবদান কতটুকু আছে, নিজেদের বুকে একবার হাত দিয়ে চিন্তা করে দেখো। বরং অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছো। বিদেশি শাসক–শোষকদের সহায়তা করেছ। নিজের ঘরে থেকে ভাইয়ের ঘর পুড়িয়েছ, মানুষকে হত্যা করেছো। মা–বোনদের লাঞ্ছিত করেছো, আরো কি না করেছ! এসবই করেছো ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের ঘৃণ্য লক্ষ্যে।
কথাগুলোর সম্পূর্ন এক ভিন্ন বাংলাদেশ আজ আমাদের বাংলাদেশ।

লেখক: তানভীর হাসান

অনলাইন একটিভিষ্ট

Leave a Reply