আণ্ডার স্ত্রীর হাতে ধানের শীষ: বিএনপি’র প্রচারের দৈন্যতা-নাজমুল হাসান

আণ্ডার স্ত্রী তার স্বামীর জন্যে ধানের শীষে ভোট চাওয়ায় নৌকা ফুটা হয়ে যায় নাই। সে নৌকা মার্কার জন্য ভোট চাইলেও সে জন্য নৌকা মহান হয়ে যেতো না, নৌকা এমনিতেই মহান ও ঐতিহ্যবাহী স্বাধীনতার প্রতীক। 

কে নৌকার সওয়ার হবে, কে হবে না, সেটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ নৌকা টেনে ধরবে, কেউ নৌকা থেকে পড়ে যাবে, কেউ নৌকায় বাদাম টাঙাবে, কেউ হাল ধরবে- এভাবে নৌকা তার যাত্রী-সমেত ঠিক ঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।
তবে এটুকু বলব- বাংলাদেশের মতো যায়গায় বিয়ে-শাদির ব্যাপারে রাজনৈতিক পরিবারগুলি যদি এ বিষয়ে একটু হিসাব-নিকাশ করে সম্বন্ধ স্থাপন করে তাহলে এই রকম ফালতু পেঁচাল এড়ানো যায়। 
ভাই বা বাবা যে দল করে, আরেকজনকেও সেই দল করতে হবে এমন তো কোনো কথা নাই- এই সহজ হিসাব এই দেশের সকল ভোটাররা সমানভাবে বোঝে না। একারণে বিএনপি এটারে তাদের পক্ষের প্রচার হিসেবে কাজে লাগাতে চাচ্ছে এবং তা দেখে আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক হায় হায় করতেছে। প্রতিটি ব্যক্তিই আলাদা- এই যায়গাটা ক্লিয়ার থাকা দরকার। 
চাঁদের যেমন নিজস্ব কোন আলো নাই, সূর্যর আলোয় সে আলোকিত হয়, বিএনপি‘রও তেমনি নিজস্ব কোন আদর্শ নাই, আওয়ামী লীগের বিরোধিতাই তাদের আদর্শ। সুতরাং আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করার জন্য তারা মরা, পচা, ঘাটের মড়া, পাগল-ছাগল যা-ই পাবে তাইই কাজে লাগাবে। আণ্ডা বা তার স্ত্রী তো অনেক বড় ব্যাপার। সুতরাং তাদের কাজ তারা করছে, এতে আওয়ামী সমর্থকদের কেন মাথা ব্যথা সেটা তো বুঝলাম না!   
আণ্ডারে বিএনপি তাদের বড় নেতা বানাইছে একমাত্র এই কারণে যে, তারে নেতা বানালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারে খানিকটা সুবিধা করা যাবে। আর আণ্ডাও হিসাব-নিকাশ করে নেতা হবার খায়েসে বিএনপি বেঁছে নিছে। কারণ, সে জানে আওয়ামী লীগ করলে সে নমিনেশন পাবে না, আলোচিত নেতা হবার বিষয় তো অনেক পরে। আওয়ামী লীগ করলে কে ওকে চিনতো? এখন তো সে বিএনপি’র আলোচিত বিশাল নেতা! যে যতো ফাউল, সে বিএনপি’র ততো বড় নেতা- এতো কমন ফর্মুলা।
আণ্ডা জানে যে, শ্বশুর আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় সে যতোই আউল-বাউল কথা বলুক তার কিছু হবে না, আবার এই ফাউল কথা ও কাজের জন্য সে হবে বিএনপি’র প্রথম সারির হিরো। হয়েছেও তাই। তারপরেও বলব, সে আওয়ামী লীগ নেতার কন্যারে বিয়ে করছে বলে তাকেও আওয়ামী লীগ করতে হবে এটা কোন যৌক্তিক প্রত্যাশা হতে পারে না। 
আওয়ামী লীগ নেতার কন্যা বিএনপি’র প্রার্থীর স্ত্রী হবার সুবাদে স্বামীর পক্ষে ধানের শীষে ভোট চাইছে- নীতি-আদর্শ, কল্যাণমূলক কিছু বলার না থাকায় এইটারে প্রচারণায় কাজে লাগানোটা বেশ ছ্যাবলামোই মনে হচ্ছে। প্রচারের কিছু না থাকার দৈন্যতা আরকি।

লেখক:নাজমুল হাসান

ব্লগার,উপন্যাসিক, কনসালটেন্ট, রিচার্সসার

Leave a Reply