জামায়াত-কামাল ভাই ভাই, সাংবাদিকদের ক্ষমা নাই!

জামায়াত বিরোধী জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা গণফোরাম সভাপতি তথা ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন রং পরিবর্তন করে জামায়াতের বন্ধুজনে পরিণত হয়েছেন। তাকে জামায়াত নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি সাংবাদিকদের উপরে ক্ষেপে গিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে ডা. কামালকে নানান সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকেই বলছেন, জামায়াত-কামাল ভাই ভাই, সাংবাদিকদের ক্ষমা নাই! বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংবাদিকদের প্রতি ডা. কামালের এমন আচরণ জামায়াতের সঙ্গে গভীর সখ্যতার প্রমাণ।


১৪ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান ড. কামালসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
এ সময় জামায়াতে ইসলামী নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের ওপর চটে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। এ সময় যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের ওপর চটে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ‘কত পয়সা পেয়েছো এসব প্রশ্ন করতে? চিনে রাখবো। কত পয়সা দিয়েছে? চুপ করো, খামোশ।’
এদিকে জাতীয় ঐক্যের শুরুতে ডা. কামালদের প্রধান শর্ত ছিলো জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। এতে রাজি হলেও বিএনপি সে শর্ত রাখেনি। বরং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিটি সমাবেশেই জামায়াতের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ নিয়ে ডা. কামাল পুনরায় সরব হলেও তাতে কোন লাভ হয়নি। বরং জাতীয় ঐক্যের পথ কিছুদূর এগোলে ডা. কামাল নিজেই জামায়াতের অনুসারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে জামায়াত-বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অভিন্ন প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ডা. কামাল এখন জামায়াত বিরোধী অবস্থান সরে এসে তাদের বন্ধু বলে বিবেচিত হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, বলতে কষ্ট হলেও বলতে হচ্ছে- স্বার্থের জন্য ডা. কামাল যা করলেন তা রাজনীতির ইতিহাসে একটি কালিমা লিপ্ত অধ্যায় হয়ে টিকে থাকবে। তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করে গোপনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। আবার জামায়াত প্রসঙ্গে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হলেন। যদি তিনি জামায়াতের বন্ধুতে পরিণত না হতেন তবে সহজ করে এর উত্তর দিলেই পারতেন। বন্ধু বলেই বন্ধুর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সমালোচনা সহ্য করতে পারেননি তিনি।
এমন প্রেক্ষাপটে সমালোচকরা বলছেন, যেহেতু জামায়াত এখন ড. কামালদের বন্ধু তাই কোনভাবে যদি তারা ক্ষমতায় যান তবে সাংবাদিকদের দেখে নিতে জামায়াতকে ব্যবহার করবেন বলেই হয়তো তার এই উদ্যত হুঙ্কার।

Leave a Reply