জামায়াতের কারণে বিএনপিকে পরিত্যাগ করলো যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়দের অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বারোটি দল পাঠিয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷

মূলত, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী অংশগ্রহণ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতেই বাংলাদেশে আসে এ দলটি। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিএনপি থেকে কোন জামায়াত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে না।
কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। আসন্ন নির্বাচনে সর্বমোট ২২টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন ছলচাতুরীর প্রেক্ষিতে বিএনপিকে পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
উক্ত বিষয় প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক প্রধান উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস বলেন, ড. কামাল আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন জামায়াতের প্রার্থী নেই, কিন্তু আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, বাংলাদেশের নির্বাচনের অন্তত ২৩টি আসনে জামায়াতকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। যা আমাদের সঙ্গে ছলচাতুরী করার শামিল। যার কারণে আমরা বিএনপিকে বয়কট করেছি।
এদিকে, বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টের ৪৭ জন প্রার্থীর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে ১০ ডিসেম্বর ওই ৪৭ প্রার্থীর তালিকা পাঠিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মনে করে, যেসব ব্যক্তি কিংবা দল সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সে বা তারা কখনোই গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক হতে পারে না। বরং তারা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। এর প্রেক্ষিতে সর্বশেষ বিএনপি তাদের যে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে তাদের মধ্যে বাছাই করা ৪৭ জনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
জানা গেছে, মার্কিন দূতাবাস যে ৪৭ প্রার্থীর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ২২ জনই জামায়াতের প্রার্থী। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তারা।
যেসব প্রার্থীর ব্যাপারে মার্কিন দূতাবাস আপত্তি তুলেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- দিনাজপুর-১ আসনের জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনের জামায়াত নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের জামায়াত নেতা আবদুল হাকিম, নীলফামারী-৩ আসনে জামায়াত নেতা মো. আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান, জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপি নেতা ফজলুর রাহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া।
এছাড়াও নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপি নেতা আলমগীর কবির, রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি নেতা আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপি নেতা নাদিম মোস্তফা, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত নেতা রকিবুল ইসলাম খান, পাবনা-৩ আসনে জামায়াত নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৫ আসনে জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন, জামালপুর-১ আসনে বিএনপি নেতা রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শেরপুর-২ আসনে বিএনপি নেতা ফাহিম চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি নেতা আলী আজগর, ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন, ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিএনপি নেতা খুররম খান চৌধুরীর নামও রয়েছে।
অপরদিকে, তালিকায় ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান, রাজবাড়ী-১ আসনে আ. নে. মাহমুদ খৈয়াম, রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপি নেতা নাসিরুল হক, মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণ, ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াত নেতা মতিয়ার রহমান, যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মুফতি ওয়াক্কাস, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত নেতা আব্দুল আলীম, খুলনা-৫ আসনে জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার, সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি নেতা শাহিনুর পাশা চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম প্রমুখের নামও রয়েছে।
এদের বিরুদ্ধে মোটা দাগের ৫টি অভিযোগ এনেছে মার্কিন দূতাবাস। সেগুলো হলো:
১. এরা গণতন্ত্র চর্চায় বিশ্বাসী না।
২. দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে এরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
৩. আসন্ন নির্বাচনে এরা জঙ্গি অর্থায়নসহ নানাভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাহায্য নেবে বলে ধারণা করছে মার্কিন দূতাবাস।
৪. এরা যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো মদদ পাবে এবং জঙ্গি কার্যক্রমে উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে মার্কিন দূতাবাস।
৫. আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে এদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা আছে।
উল্লেখিত ৫টি কারণের জন্য বিএনপি, জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টের ৪৭ জন প্রার্থীর ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। অবশ্য ড. কামাল হোসেন এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Leave a Reply