অনেকেই চায়না আসল রহস্য বেরিয়ে আসুক

২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জীবনের মায়া ত্যাগ করে যারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদেরকে উদ্ধার করেছেন সোহেল শাহরিয়ার তাদের একজন।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল শাহরিয়ারের মতো মুজিব সেনাদের জন্যই আজকের আওয়ামী লীগের সুদিন। যাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজনীতির রাজপথ।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পেছনে এমন হাজারো সোহেল শাহরিয়ারদের অবদান।

তার ভাষায় সেদিনের সেই চিত্র ছিল ইতিহাসের নারকীয় ঘঠনাগুলোর মধ্যে একটি। সেদিন অল্পের জন্য প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা রক্ষা পেয়েছিলেন কিন্তু হাজারো আওয়ামী সেনা ও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ।

এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় প্রায় ৫০০ জন আহত হন। অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। নির্মম সেই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী। যে হত্যার মিশন চালায় জামায়াত-বিএনপি জোট।

রক্তাক্ত নেতাকর্মী, আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রীদের উদ্ধার করতে যেসব ছাত্রনেতা অন্যান্য ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে সোহেল শাহরিয়ার একজন। নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে লাশের স্তুপ, রক্তগঙ্গা থেকে রক্তাক্ত নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যান।

গ্রেনেড হামলা

জামায়াত-বিএনপি জোট সরকার আমলে বারবার পুলিশি হামলার শিকার হওয়া এই সোহেল শাহরিয়ার হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং মতিঝিল থানা ছাত্রলীগ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে কানাডা তে অবস্থান করছেন। কানাডার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। কানাডার টরেন্টো সিটি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিচ্ছবিকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সেই গ্রেনেড হামলার নারকীয় অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল শাহরিয়ার।

তাঁর ভাষ্য, ‘সেদিনের ঘটনায় আমি আহত হইনি, কিন্তু, আহতদের চেয়ে আমার যন্ত্রণা কোনো অংশে কম নয়। চোখের সামনে হাজার হাজার দেহ পড়ে আছে, কেউ মৃত- কেউবা অর্ধমৃত। আজও সেদিনের নৃশংসতার কথা মনে পড়লে, দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে থাকার চেষ্টা করি। আমার সিনিয়র-জুনিয়র যেসব নেতাকর্মী সেদিন নেত্রীর জন্য-দলের জন্য প্রাণ দিয়েছেন কিংবা আজও শরীরে সেদিনের স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা থাকবে আজীবন।’

সোহেল শাহরিয়ারসোহেল শাহরিয়ারের কথায় বেরিয়ে এসেছে কিছু অজানা নাম। যারা সেদিন আইনের রক্ষক হয়ে আইন ভাঙার নেশায় মেতেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেদিনের ঘটনার পর “জজ মিয়া নাটক” সাজিয়েছিলেন রমনা জোনের তৎকালীন এসপি রুহুল আমিন। সেসময় আমাকে চোখ বেঁধে মালিবাগের সিআইডি অফিসের তিন তলায় নিয়ে যায় রমনা থানার ওসি মাহবুব। সেখানে যে রুমে আমাকে নেয়া হয় সেখানে লেখা ছিল “২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত কমিশন”।

সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, ‘তাদের কাছে বারবার জানতে চাই “আমাকে এখানে এনেছেন কেন?” একসময় তারা বলে, “হামলা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার আছে”। আমি বললাম, আমি এসবের মধ্যে জড়াতে চাই না। তখন তারা বলে, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশনে নিয়ে যাব।” এরপর অনেক কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে আমাকে ছেড়ে দেয়।

সোহেল শাহরিয়ার আরো বলেন, ‘হামলার সময় আমি নেত্রীর রাজনৈতিক সচিব ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরী (এমপি) ভাইয়ের সঙ্গে মিছিল নিয়ে মুক্তমঞ্চের দিকে যাচ্ছিলাম। তবে দেরি হয়ে যাওয়ায় আমরা আর মুক্তমঞ্চে প্রবেশ করতে পারিনি।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সম্পর্কে সোহেল শাহরিয়ার বলেন, ‘১৩ বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকার পেছনে আন্তর্জাতিক ও দেশের রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। অনেকেই চায় না সেদিনের ঘটনার আসল রহস্য বাইরে বেরিয়ে আসুক। তাদের অনেকেই বর্তমান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। এসব প্রভাবশালীদের কারণে “গ্রেনেড হামলা” মামলার আসামিরা কেউ বাইরে কেউ জেলে আছে। কিন্তু কারো শাস্তি কার্যকর হচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাই “গ্রেনেড হামলা” মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ সাঁজা দেয়া হোক। আমার বিশ্বাস ২০১৭ সালের মধ্যেই এ মামলার সব আসামিদের সাঁজা দেয়া হবে।’

Leave a Reply