৩০ শে জানুয়ারী, স্বাধীনতার পরও বিহারীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হন জহির রায়হান

১৯৭১ সালের ১৬-ই ডিসেম্বর পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পন করলেও করেনি মিরপুরের সশস্ত্র বিহারীরা। তাই তাদের নিরস্ত্র করতে ৩০শে জানুয়ারী ১৯৭২ সালে অভিযান চালায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর একটি দল। এই দলের সাথে জহির রায়হান যুক্ত হন আল বদর কর্তৃক অপহৃত তার ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারের খোঁজে এবং নির্মম ভাবে খুন হন বিহারীদের হাতে। অথচ তার অন্তর্ধানের দীর্ঘ আঠাশ বছর পর্যন্ত তাকে অপহরন করে গুম করে ফেলার খবর প্রচার করা হয়। কিন্তু পহেলা সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ দৈনিক ভোরের কাগজের এক রিপোর্টে বেরিয়ে আসে জহির রায়হান খুনের আসল রহস্য।

স্বাধীন স্বদেশের মাটিতে নির্মল বাতাসে নি:শ্বাস ফেলতে চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠক, খ্যাতিমান সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার, অথচ সদ্য স্বাধীন রাজধানী ঢাকাতেই তিনি হারিয়ে গেলেন দিনের আলোয় ।

১৯৩৫ সালের বর্তমান ফেনী জেলায় জন্ম নেন এই অসামান্য প্রভাধর মানুষটি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর সময় তিনি চলে যান ওপার বাংলায়। সেখানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার অভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। কলকাতায় বাংলাদেশের সিনেমার এই প্রাণপুরুষ পাকিস্তানের সেনা বাহিনির অত্যাচারকে কেন্দ্র করে তৈরি করেন প্রামাণ্যচিত্র ‘stop genocide’ এবং ‘birth of a nation’।

‘সোনার কাজল’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘সঙ্গম’, ‘বাহানা’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’ ওনার কালজয়ীসব সিনেমা।